Breaking News
Loading...
Thursday, August 26, 2010

অধিকাংশের মতে, ৩ হিজরির ১৫ রমাদান মোতাবেক ৬২৫ খ্রিস্টাব্দের ১ এপ্রিল প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের আদরের বড় নাতি এবং হজরত আলী কারামুল্লাহ ওয়াজহাতু ও হজরত ফাতিমাতুজ জাহরা রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহার আদরের বড় ছেলে হজরত ইমাম হাসান রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহু মদিনা মনওয়ারায় মসজিদুন নববি থেকে পশ্চিমে ২৯০ মিটার দূরে হজরত আলী কারামুল্লাহ ওয়াজজাহুর গৃহে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র ছিলেন। তার থেকে ১৩ খানা হাদিস বর্ণিত আছে। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু বাক্রা (রাঃ) বলেন, 'একদিন আমি দেখলাম হজরত রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) মসজিদুন নববিতে মিম্বরের ওপর বসে আছেন আর তার পাশে বসে আছেন হাসান। হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একবার সামনের লোকজনের দিকে তাকাচ্ছিলেন আবার পাশে বসা হাসানের দিকে তাকাচ্ছিলেন। তিনি এ সময় হাসানকে লক্ষ্য করে বলছিলেন : আমার এই বংশধর একজন বড় নেতা। আশা করা যায়, আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলিম বিবাদমান দুই দলের পারস্পরিক বিরোধ দূর করায়ে মিলন ঘটাবেন।' (বুখারি শরিফ)।

হজরত আনাম (রাঃ) বলেন, 'হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর চেহারা মোবারকের সঙ্গে হজরত হাসান (রাঃ)-এর চেহারা মোবারকের মিল এত বেশি ছিল যে, যা আর কারও ছিল না।' (বুখারি শরিফ)

তার শৈশব ও কিশোর বয়সকালের সবটুকুই তার আব্বা-আম্মা ও নানাজানের স্নেহছায়ায় কেটেছে। তিনি দিবসের সবটুকু অংশ নানা হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাহচর্যে থাকতেন। হুজরার ভেতরে নানিজানরাও তাকে খুবই স্নেহ করতেন। উল্লেখ্য, আপন নানি হজরত খাদিজা (রাঃ) আনহা তার জন্মের প্রায় পাঁচ বছর আগে ইন্তেকাল করেন। এ সত্ত্বেও নানির অভাব তিনি কখনও অনুভব করেননি।

তিনি সন্ধ্যাবেলা মায়ের কোলে ফিরে এসে মসজিদে নববিতে হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উপস্থিত লোকজনকে যা কিছু বলতেন এবং যে ভঙ্গিতে বলতেন তা সেই ভঙ্গিতে মা হজরত ফাতিমা (রাঃ) নিকট ব্যক্ত করতেন।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আল্লাহের সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার সময় তার বয়স ছিল আট বছর।

সাহাবায়ে কিরাম, বিশেষ করে প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ), দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রাঃ) এবং তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রাঃ) তাকে এবং তার ছোট ভাই ইমাম হুসাইন রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহুকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন এবং অত্যন্ত ভালোবাসতেন।

হজরত উমর (রাঃ) দিউয়ান ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাতা প্রদানের যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সেই ব্যবস্থাধীনে ভাতাপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম লেখা হয় তৃতীয় স্থানে। প্রথমে লেখা হয় হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর চাচাজান হজরত আব্বাস (রাঃ)-এর নাম, দ্বিতীয় স্থানে হজরত আলী লেখা হয় এবং তৃতীয় স্থানে তার নাম লেখা হয়। বছরে ৫ হাজার দিরহাম ভাতা স্থির করা হয়। পরবর্তী সময়ে বার্ষিক ১০ লাখ দিরহাম তিনি পেতেন।

হজরত উসমান (রাঃ)-এর আমলে তিনি ৩০ হিজরিতে তাবারিস্তান অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। একদল বিপথগামী বিদ্রোহী হজরত উসমান (রাঃ)-এর বাসভবন ঘেরাও করলে তিনি তার ছোট ভাই ইমাম হুসাইন (রাঃ)সহ অন্যদের সঙ্গে ঘেরাওকারীদের হামলা প্রতিহত করতে সদর ফটকে ছিলেন এবং আহত হয়েছিলেন। হজরত ইমাম হাসান (রাঃ) ৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

লেখক: অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম

0 comments:

Post a Comment